প্রকাশিত: Fri, Aug 11, 2023 9:07 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 2:21 AM

[১]৪৭ বছর পর চাঁদের পথে রাশিয়ার লুনা-২৫

ইমরুল শাহেদ: [২] বলা হয়েছে, উৎক্ষেপণের পাঁচ দিনের মধ্যেই লুনা চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে যাবে। সূত্র: ভারতের আনন্দবাজার

[৩] সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়ার আমুর ওব্লাস্টের ভোস্টোচনি কসমোড্রোম থেকে শুক্রবার সকাল আটটা দশ মিনিটে লুনা-২৫ উৎক্ষেপিত হয়েছে। 

[৪] রাশিয়ার মহাকাশযানটি চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশের আগে এবং শেষ পর্যন্ত চাঁদের পৃষ্ঠে নামার আগে পৃথিবীর চারপাশে একটি কক্ষপথে প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট রাশিয়ার শেষ চন্দ্রযান ল্যান্ডার লুনা- ২৪ চাঁদে অবতরণ করেছিল।

[৫] সিএএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের চন্দ্রযান-৩ এবং রাশিয়ার লুনা-২৫ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রায় একই সময়ে অবতরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।  

[৬] ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চন্দ্রযান-৩’র চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার কথা আগামী ২৩ আগস্ট। ওই দিনই চাঁদের মাটিতে নামতে পারে।

[৭] রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের তরফে দাবি করা হয়েছে, উৎক্ষেপণের পাঁচ দিনের মধ্যে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছবে লুনা-২৫। 

[৮] চাঁদের দক্ষিণ মেরু এখনও অনাবিষ্কৃত। দক্ষিণ মেরু চিরকালীন অন্ধকারে নিমজ্জিত। পুরু বরফের চাদরে আচ্ছাদিত এই অংশ অত্যন্ত দুর্গম। সেই কারণেই এখনও পর্যন্ত এখানে কোনও অভিযান সফল হয়নি। 

[৯] ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদে পৌঁছতে সময় নিচ্ছে প্রায় ৪১ দিন। সেখানে, রুশ অভিযানে সময় লাগছে মাত্র ১২ দিন! দুই দেশের সময়ের এত ফারাক কেন? 

[১০] চন্দ্র অভিযানের ক্ষেত্রে ভারত এবং রাশিয়ার মূল ফারাক প্রযুক্তিতে। কম খরচে অপেক্ষাকৃত বেশি পথ ঘুরে ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদে পৌঁছবে। রাশিয়ার প্রযুক্তি অনেক উন্নত এবং বেশি খরচসাপেক্ষ। 

[১১] চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশের পরেও একই ভাবে এগোচ্ছে ভারতের চন্দ্রযান। সেখানেই ধাপে ধাপে পাঁচ বার কক্ষপথ পরিবর্তন করছে সে। পঞ্চম কক্ষপথে পৌঁছনোর পরেই চন্দ্রযান-৩ পৌঁছে যাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। যাত্রাপথে পৃথিবী এবং চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে চন্দ্রযান-৩। কম জ্বালানি খরচ করে মাধ্যাকর্ষণের শক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইসরো। সেই কারণেই অভিযানে এত বেশি সময় লাগছে।

[১২] রাশিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। অধিক জ্বালানি খরচ করে সংক্ষিপ্ত পথেই চাঁদে যাচ্ছে লুনা-২৫। চাঁদে সফল ভাবে নামতে পারলে রাশিয়া এবং ভারতের মহাকাশযানের উদ্দেশ্যতেও প্রযুক্তিগত ফারাক আছে। 

[১১] চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রমের ওজন ১,৭৫২ কেজি। রুশ ল্যান্ডারের ওজন মাত্র ৮০০ কেজি। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নেমে চন্দ্রযান-৩ গবেষণার জন্য নানা তথ্য সংগ্রহ করবে ১৪ দিন ধরে। রুশ ল্যান্ডার চাঁদে থাকবে অন্তত এক বছর।

[১৩] চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাথরের নীচে জল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রাণের উপযোগী পরিবেশের সন্ধানও মিলতে পারে। তাই দক্ষিণ মেরু বিজ্ঞানীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে। এক বছর ধরে দক্ষিণ মেরুতে ঘুরে ঘুরে সেই সন্ধানই চালাবে রাশিয়ার লুনা-২৫।

[১৪] লুনা-২৫-এর ভর ১.৮ টন। পেটের মধ্যে ৩১ কেজি ওজনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন করছে এই ল্যান্ডার। চাঁদের মাটির অন্তত ৬ ইঞ্চি গভীর থেকে পাথুরে উপাদান সংগ্রহ করবে লুনা-২৫। সম্পাদনা: ইকবাল খান